ক্যাপ্টেন স্কটের মেরু, অভিযানের বিষয়ে একটা দারণ লোমখাড়া করা বই সবে শেষ করেছি, আর তার এত অল্প দিনের মধ্যেই যে বরফের দেশে গিয়ে পড়তে হবে সেটা ভাবতেই পারিনি। অবিশ্যি বরফের দেশ বলতে কেউ যেন আঁবার নর্থ পোল সাউথ পোল ভেবে না বসে। ওসব দেশে কোনো মামলার তদন্ত বা রহস্যের সমাধান করতে ফেলুদাকে কোনোদিন যেতে হবে বলে মনে হয় না। আমরা যেখানে গিয়েছিলাম সেটা আমাদেরই দেশের ভিতর ; কিন্তু যে সময়টায় গিয়েছিলাম তখন সেখানে বরফ, আর সে বরফ আকাশ থেকে মিহি তুলোর মতো ভাসতে ভাসতে নিচে নেমে এসে মাটিতে পরে হয়ে জমে, আর রোদ্দুরে সে বরফের দিকে চাইলে চোখ ঝলসে যায়, আর সে বরফ মাটি থেকে মুঠো করে তুলে নিয়ে বল পাকিয়ে ছোঁড়া যায়।
আমাদের এই অ্যাডভেঞ্চারের শত্রু, হয় গত মার্চ মাসের এক বিষ্যুদবারের সকালে। ফেলদোর এখন গোয়েন্দা হিসাবে বেশ নাম হয়েছে, তাই ওর কাছে মক্কেলও আসে মাঝে মাঝে। তবে ভালো কেস না হলে ও নেয় না। ভালো মানে যাতে ওর আশ্চর্য বৃদ্ধিটা শানিয়ে নেওয়ার সংযোগ হয় এমন কেস। এবারের কেসটা প্রথমে শুনে তেমন আহামরি কিছু মনে হয়নি। কিন্তু ফেলদোর বোধহয় একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে যার ফলে ও সেটার মধ্যে কিসের জানি গন্ধ পেয়ে নিতে রাজী হয়ে গেল। অবিশ্যি এও হতে পারে যে মক্কেল ছিলেন বেশ হোমরা-চোমরা লোক, আর তাই ফেলান্দা হয়ত একটা মোটা রকম দাঁও মারার সংযোগ দেখে থাকতে পারে। পরে ফেল,দাকে কথাটা জিগ্যেস করাতে ও এমন কটমট করে আমার দিকে চাইল যে আমি একেবারে বেমালাম চপ মেরে গেলাম।
মক্কেলের নাম দীননাথ লাহিড়ী। বুধবার সন্ধ্যাবেলা ফোন করে পরদিন সকালে সাড়ে আটটায় আসবেন বলেছিলেন, আর ঠিক ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় *একটা গাড়ি এসে থামার আওয়াজ পেলাম আমাদের তারা রোডের বাড়ির সামনে। গাড়ির হর্নটা অদ্ভুত ধরনের, আর সেটা শোনামাত্র আমি দরজার দিকে এগিয়ে গিয়েছিলাম। ফেলদো একটা ইশারা করে আমায় থামিয়ে দিয়ে চাপা গলায় বলল, ‘অত আদেখলামো কেন ? বেলটা বাজক…
বাক্স-রহস্য
সত্যজিৎ রায়
লালন প্রকাশনী
২৬২ বংশাল রোড, ঢাকা-১
প্রথম বাংলাদেশ সংস্করণ
শ্রাবণ, ১৩৮৩
জুলাই, ১৯৭৬
প্রকাশিকা
মিসেস লায়লা কবির
৪০/ এ ইন্দিরা রোড, ঢাকা
মন্দ্রক
ওয়াদ,দলে হক
লালন প্রকাশনী,
২৬২ বংশাল রোড, ঢাকা
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ
সত্যজিৎ রায়
লেখক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দাম আট টাকা