ঐতিহ্যমণ্ডিত দিনাজপুর জেলা গঠিত হয় ১৭৮৬ খ্রীষ্টাব্দে। ১৮০৭-১৮০৮ খ্রীষ্টাব্দে হ্যামিলটন বুকানন সাহেব’-এর বিবরণে জানা যায়, ৫ হাজার ৩ শো ৭৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে ত্রিভুজের মত এই জেলা ২৪৬৮ থেকে ২৬১৮ উত্তর অক্ষরেখার ভেতরে অবস্থিত ছিল। পশ্চিমে নাগর ও মহানন্দা নদী পূর্ণিয়া জেলা থেকে এই জেলাকে পৃথক করেছে। এই জেলা দক্ষিণে পুনর্ভবা নদী যেখানে মহানন্দার সঙ্গে মিশেছে সেই পর্যন্ত অবস্থিত ছিল। পূর্বে করতোয়া নদী রংপুর জেলা থেকে এ-জেলাকে পৃথক করেছে। উত্তরদিকে জেলার সীমা নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত ছিল না। জেলা তখন ২২টি থানায় বিভক্ত ছিল। ১৮১৩ সালে দিনাজপুর জেলার ২টি থানা, পূর্ণিয়া জেলার ৪টি থানা এবং রাজশাহী জেলার ২টি থানা নিয়ে মালদহ জেলা গঠিত হয়। ১৮২১ খ্রীষ্টাব্দে গঠিত হয় বগুড়া জেলা। দিনাজপুর জেলার দক্ষিণপূর্ব অংশ থেকে ৩টি থানা যুক্ত হয় ঐ নবগঠিত বগুড়া জেলার সঙ্গে। উল্লেখ্য এই যে, ১৭৯৬ খ্রীষ্টাব্দে দিনাজপুর জেলা থেকে পূর্ণিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র জেলারূপে গঠিত হয়।
১৮৭২ খ্রীষ্টাব্দের লোকগণনা অনুযায়ী দিনাজপুর জেলার লোকসংখ্যা ছিল ১৫ লক্ষ ১ হাজার ৯শো ২৪জন। তখন ১৭টি থানার উল্লেখ ছিল। ১৮৭৪ খ্রীষ্টাব্দে হান্টারের বিবরণ থেকে জানা যায়, জেলার মোট আয়তন ছিল ৪ হাজার ৯৫ দশমিক ১৪ বর্গমাইল। গ্রামের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬শো ৫৪টি। উল্লেখ্য যে ১৮২৯ খ্রীষ্টাব্দে লর্ড বেন্টিঙ্ক এক আদেশবলে কয়েকটি জেলা নিয়ে এক একটি বিভাগ গঠন করেন। ঐ সালে রাজশাহী বিভাগ গঠিত হলে দিনাজপুর ঐ নবগঠিত রাজশাহী বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়। আবার, জেলা প্রশাসনের সুবিধার জন্য কয়েকটি থানাকে নিয়ে এক একটি মহকুমা গঠন করা হয়। ১৮৬৬ সালে দিনাজপুর সদর মহকুমা, ১৮৮৬ সালে ঠাকুরগাঁ এবং ১৯০৪ সালে বালুরঘাট মহকুমা গঠিত হয়। ১৯১২ সালের দিনাজপুর জেলা গেজিটিয়ার থেকে জানা যায় যে, এই সময় দিনাজপুর জেলার আয়তন ছিল ৩ হাজার ৯শো ৪৬ বর্গমাইল এবং থানার সংখ্যা ছিল ৩০টি। এখানে বলে রাখি, এই জেলার থানাগুলি বৃহদায়তন থাকার ফলে জেলার প্রত্যন্ত অংশে বৃটিশ শাসকদের আইন ও নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে বিভিন্ন সময়ে এক একটি থানাকে ভেঙ্গে নতুন নতুন থানা বা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র গঠিত হয়েছিল। এভাবেই ধামেইর হাট, ইটাহার, বালিয়াডাঙ্গি, আটোয়ারী, চিরিরবন্দর, কুশমণ্ডি, তপন, কুমারগঞ্জ, বালুরঘাট — এইসব থানা গঠিত হয়েছিল।
দিনাজপুর সদর মহকুমায় ছিল ১২টি থানা, ঠাকুরগাঁ মহকুমায় ১০টি ও বালুরঘাট মহকুমায় ছিল ৮টি থানা। তখন লোকসংখ্যা ১৭লক্ষ ৫৫ হাজার ৪৩২জন। গড়ে হিন্দু-মুসলমানের সংখ্যা ছিল প্রায়ই সমান। রায়গঞ্জ ও কালিয়াগঞ্জ থানায় হিন্দুর সংখ্যা ছিল অধিক আর নবাবগঞ্জ, পোর্শা ও পার্ব্বতীপুর, এই ৩টি থানায় মুসলমানের সংখ্যা বেশি। তফসিলী সমাজ বলতে দিনাজপুরে সেইসময় ছিল রাজবংশী, পলিয়া, ভুঁইমালী, ভুঞা, মালো, মুচি, নমঃশূদ্র ও নুনিয়া সম্প্রদায়। তফঃশিলী উপজাতিদের মধ্যে ছিল ভূমিজ, করমালি, কোরা, ওঁরাও, মুণ্ডা, সাঁওতাল, মাহালী, মাল, লোহার, মুশাহার, তুরী, দোমাদ, খাসি প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
দিনাজপুর কৃষিনির্ভর জেলা। এর সর্বাংশই সমতলভূমিতে অবস্থিত। ভূসমীক্ষকদের মতে, এই জেলার দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশের ভূমি কোথাও কোথাও সমতল না হয়ে ছিল তরঙ্গায়িত।
বিশশতকের দিনাজপুর
মন্বন্তর ও কৃষক আন্দোলন
ধনঞ্জয় রায়
BIS SATAKER DINAJPUR MANNANTA-O-KRISHK ANDOLAN
BY Dhananjoy Roy
Sushama Roy
First Published
December 1997
ISBN : 81-7332-136-5
Price Rs. 40/- only
প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৯৯৭
প্রচ্ছদ : প্রদীপ ভট্টাচার্য
দাম : ৪০ টাকা
পুনশ্চ, ১১৪এন ডাঃ এস. সি ব্যানার্জী রোড, কলকাতা
৭০০ ০১০ থেকে
সন্দীপ নায়ক কর্তৃক প্রকাশিত এবং ডটলাইন প্রিন্ট অ্যাণ্ড প্রসেস, ১১৪এন, ডাঃ এস. সি. ব্যানার্জী রোড, কলকাতা-৭০০ ০১০ থেকে তৎকর্তৃক মুদ্রিত।