মাৎসিনি যখন বেঁচে ছিলেন, সে আজকের কথা নয়, তিনি এবং তাঁর মতো অনেক লোককে পেয়েও ইটালী তাদের কাম্যকে বরণ করে নিতে পারলো না, অর্থাৎ সমাজব্যবস্থায় ভারতের অনুরূপ হয়েও এবং অতো আগেও অনেক চিন্তাশীল লোকদের বক্তৃতায় সোস্যালিজমের আভাষ পেয়েও, সেখানে আজ ফ্যাসিজম। এই দেখে মনে হয়, ভারতেরও তাই হবে, শেষ পর্যন্ত সেই বহুনিন্দিত ডেমোক্র্যাসি রায় বা ভারতের অগণ্য দরিদ্র অধিবাসীর আশা সফল হবে না, কাল | নয় বৃটিশের হাত থেকে ছাড়া পেলো, পরশু পড়বে গিয়ে ধনীদের হাতে।
[ নির্মলচন্দ্ৰ ঘোষকে লেখা সোমেন চন্দের চিঠি থেকে]
এপ্রিল, ১৯৯৬
প্রথম ফ্যাসিবিরোধী সাহিত্যিক শহীদ সোমেন চন্দ সমিতির সশ্রদ্ধ অভিবাদন
ভারতবর্ষের প্রথম সাহিত্যিক শহীদ মৃত্যুহীন প্রাণ সোমেন চন্দ ১৯২০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেই প্লুরিসিস জাতীয় অসুখে আক্রান্ত হলেন। অসুস্থতা তাঁর দেহকে গৃহবন্দী করল বটে, মন ছড়িয়ে পড়ল দিগন্ত থেকে দিগন্তে। স্বদেশ ও সাহিত্য নিয়ে গভীর চর্চা শুরু করলেন। বিদেশী লেখকদের মধ্যে বানার্ড শ, এইচ. জি. ওয়েলস, ডসটয়েভস্কি, পুশকিন, গোর্কি, শলোকভ, টমাস সান, হেসিং ওয়ে, অনেষ্ট টলার তাঁর মনোজগতে প্রভাব ফেললেন; প্রভাব পড়ল বিভূতিভূষণ ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এঁদের রচনা পাঠের সঙ্গে সঙ্গে, রাজনীতিক ও সমালোচকদের লেখাও পড়তে লাগলেন। তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী সোমেন চন্দ মনন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অসামান্য সৃষ্টিশীলতার পরিচয় রেখে গেছেন। মাত্র ২১ বছরের জীবনে। সত্য মূল্য না দিয়ে সাহিত্যের খ্যাতি চুরি করা ছিল তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। তাই মার্কসবাদী সোমেন চন্দ ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে যোগ দিলেন শ্রমিকদের সঙ্গে কর্মে ও কথায় আত্মীয়তা অর্জনের উদ্দেশ্যে। তিনি সমসাময়িক সাহিত্যিক বন্ধুদের বলতেন, “সারাদিন ওদের মধ্যে থাকলে তবেই সারারাত লেখার উপকরণ যোগাড় হয়।” খেটে খাওয়া মানুষের মুখের ভাষাকে সাহিত্যে স্থান দিতে হবে এই ছিল তাঁর লক্ষ্য। শিল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক আদর্শেই উদ্বুদ্ধ সাহিত্যিক কর্মীদের বামফ্রন্ট চাই। তাই বাংলাদেশের তরুণ সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রগতিশীলতার জোয়ার আনতে ‘ক্রান্তি’ নামে এক সঙ্কলন প্রকাশের দায়িত্ব নিলেন। এই সংকলন বাংলাদেশের প্রগতিশীল মানুষের মনকে নাড়া দিয়েছিল, সাড়া জাগিয়েছিল সাহিত্যের দুনিয়ায়। সোমেন চন্দ কখনোই কলাকৈবল্যের শুদ্ধ বাতাবরণের আড়ালে সাহিত্যকে লুকিয়ে রাখতে চান নি। ভলাদিমির মায়াকোভস্কির ভাষায় সোমেন চন্দের “হৃদয় বাঁদিকেই ছিল।” সোমেন চন্দের “সংকেত” স্মরণ করিয়ে দেয় লক্ষীনারায়ণ ও ঢাকেশ্বরী মিলের মাসাধিক কালের সফল ধর্মঘটকে; “দাঙ্গা” ঢাকা ও রায়পুরার ভয়াবহ দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে লেখা; “একটি রাত” বা “ইঁদুর” স্মরণ করিয়ে দেয় ক্রমবর্ধমান শ্রমিক আন্দোলনকে; ১৯৩৯ সাল থেকেই সেখানে মিল, রেলওয়ে, হোসিয়ারি, প্রেস ও বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
সোমেন চন্দ সংখ্যা
সম্পাদক : শ্রীঅজিত বাগ
Teachers’ Journal
বৈশাখ, ১৪০৩
৭৫তম বর্ষ : চতুর্থ সংখ্যা
সমিতি কার্যালয় : সত্যপ্রিয় ভবন, পি-১৪, গণেশচন্দ্র এভেনিউ,কলিকাতা-১৩ ফোন : ২৬৮১৫৮, ২৬-৮৮৫৬
ফ্যাক্স: ২৬-৯৯৩২
পত্রিকা কার্যালয় : ১৫নং বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রীট, কলিকাতা-৭৩ ফোন : ২৪১-২৯৫৪