কোনো সংকলিত পুস্তক প্রণয়নের প্রণেতার কোনো গৌরব নেই। কেননা তা নকলনবীশি মাত্র। তার আবার ‘ভূমিকা’ কি? এ কথাটা সকলেই জানেন, জানি আমিও। তথাপি আমি এ ভূমিকাটুকু লিখছি কেনো? এ প্রশ্নটির কৈফিয়ৎটুক্রুই নাম দিয়েছি ভূমিকা। মূলতঃ এটা ভূমিকা নয়, একটা কৈফিয়ৎ।
সুযোগ মেলেনি বলে শৈশব থেকে কোনো বিদ্যালয়ে লেখা-পড়া শিখতে পারিনি। লেখা-পড়ায় আমার কোনো অধিকার নেই। অথচ আমি এর চর্চা করি। এটা আমার অনধিকার চর্চা। আর অনধিকার চর্চা করা একটা অপরাধও বটে। সময় সময় তা মারাত্মক রূপও ধারণ করতে পারে। কোনো পর্দানবিশ ব্যক্তির অন্তঃপুরে যদি কোনো সাধু পুরুষও ঢুকে পড়েন, তবে তিনি কি ‘সাধু পুরুষ’ বলে অনধিকার প্রবেশের অপরাধ থেকে রক্ষা পান? কখনই নয়। কর্তাব্যকিক্তটি সাধুকে গলা ধাক্কা দিয়ে অন্তঃপুর থেকে বের করে তো দেবেনই বরং সাধুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করতে পারেন।
আরজ আলী মাতুব্বর
মুক্ত-মন
সত্যের সন্ধান, সৃষ্টি-রহস্য,অনুমান প্রভৃতি গ্রন্থ রচিয়িতা
আরজ আলী মাতুব্বর প্রণীত সংকলিত
প্রকাশক: মোশারফ হোসেন মাতুব্বার
আজাদ অয়েল মিল, হাটখোলা, বরিশাল।
প্রকাশকাল : ১৯৮৮।
মূল্য : ৪৫.০০ টাকা