‘‘জনতা’র জন্য যখন ‘মাও সে-তুঙ-এর দেশে’র কথা বলিতাম, তখন ভাবি নাই কেহ কোনোদিন উহা পুস্তক আকারে প্রকাশ করিতে আগ্রহী হইবে। জনতা’র সম্পাদক মন্ডলীর নিত্যকার তাগিদে অতিষ্ঠ হইয়াই এই বই-এ ব্যক্ত কথাগুলি বলিতে হইয়াছিল। সম্ভবত: তাঁহাদের এই অদম্য উৎসাহ আমাকে দিয়া এইভাবে লিখাইয়া না লইলে কোনোদিনই আমার এই সফর অভিজ্ঞতা বর্ণিত হইতনা।
আমার চীন সফরে আমার অনেক বন্ধুই দুঃখ পাইয়াছেন। অনেকে চীনের বদলে যদি আমি যুক্তরাষ্ট্র যাইতাম তবে খুশি হইতেন। চীনের নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করিলে আমার গলায় মালা পরাইতে পারিতেন, এমন বন্ধুও আমার আছে। তাঁহাদের প্রায় সকলের মনোভাবই আমার জানা ছিল। তবু আমি চীনে গিয়াছিলাম।
আজিকার সংঘাতক্ষুব্ধ বিশ্বে চীন এক মহাবিস্ময়! চীন আজ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার লুণ্ঠিত জনসমষ্টির মুক্তি সংগ্রামের নেতা। চীন এই তিন মহাদেশের সদ্যোত্থিত জনগণের মুক্তিতীর্থ। আমি সেই তীর্থ দর্শনে গিয়াছিলাম। আমার সেই তীর্থ দর্শন ব্যর্থ হয় নাই। নতুন জীবন বোধের প্রত্যয় দীপ্ত আলোকে আমার আশি বছরের বিশৃঙ্খল জীবনকে নতুন করিয়া দেখিতে শিখিয়াছিল। আর তাই আমার মনে কোনো গ্লানি নাই; এখনও যাহারা কুৎসা রটনা করিতেছে, একদিন তাহাদের ভুল ভাঙিবে।
চীন দুনিয়ার বঞ্চিত মানুষের মুক্তি সংগ্রামের সবচাইতে দৃঢ়, সবচাইতে আপন বন্ধু। চীনতাই সাম্রাজ্যবাদের সব চাইতে বড় শত্রু। চীনকে, চীনের মানুষের সংগ্রামকে নির্মূল করিবার চক্রান্ত চতুর্দিকে। আমাদের দেশও সেই চক্রান্তের অংশীদার ছিল।….
মাও সে-তুঙ এর দেশে
মওলানা ভাসানী
প্রকাশক : নুরজাহান সুলতান, পুঁথিপত্র প্রকাশনী
৯/২ শেখ সাহেব বাজার, ১/৬ শ্রীশ দাস লেন, বাংলাবাজার, ঢাকা-১
প্রকাশকাল : ১৩৭২
মূল্য : ৪ টাকা