আমার মত একজন সামান্য কর্মীর এবং নগণ্য সংস্কৃতিসেবীর ‘স্মতিকথা’ লেখার সার্থকতা কি, এ-প্রশ্ন সঙ্গতভাবেই উঠতে পারে। কিংবা, আয়ুর যে-সিঁড়িতে পা ডুবিয়ে একজন সার্থক মানুষ স্মৃতি-চারণার আত্মপ্রসাদ লাভ করেন, সেই পক্ককেশ বৃদ্ধের দলেও আমি নই। তবু জীবনে বোধ হয় এমন এক-একটা সময় আসে যখন সব হিসেব ভণ্ডুল হয়ে যায়। ঠিক এমনি এক মুহুর্তে, পঞ্চাশ না-পেরুতেই, মধ্য-চল্লিশে প্রবেশ করে যা কোনো দিন কল্পনা করি নি, সেই কাজে আমাকেও হাত লাগাতে হলো। স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতান্ত্রিক বাঙলাদেশের উজ্জ্বল মূর্তি সম্মুখে রেখে, পুনর্বার আত্মানুষন্ধানে অগ্রসর হয়ে আমাকেও লিখতে হলো আমার জন্মভূমির স্মৃতিময় অতীত ইতিহাস।
চল্লিশের দশকের প্রারম্ভ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত পূর্ববাঙলার গণ-আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কারাগারের মধ্যে এবং তার বাইরে আমি যে সব দেশপ্রেমিক নেতা ও কর্মীর সংস্পর্শে এসেছিলাম, নিজের চোখে বিভাগ-পূর্ব এবং বিভাগোত্তর কালে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও ব্যক্তিমানুষকে যে ভূমিকা আমি পালন করতে দেখেছি, স্বাধীন বাঙলাদেশের সেই রাজনৈতিক পশ্চাৎপটকেই যথাসাধ্য রিপেক্ষ মন নিয়ে আমি এই বইতে বিধৃত করতে চেয়েছি।
আমার জন্মভূমি স্মৃতিময় বাঙলাদেশ
ধনঞ্জয় দাশ
প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯৭১
প্রকাশক : রঞ্জন
মুক্তধারা
[স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ]
৯ এ্যাণ্টর্নি বাগান লেন, কলিকাতা- ৯
মূল্য : পাঁচ টাকা