কেবল এক উর্দু সাহিত্যেই নয় বরং যদি বলি গোটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ একজন উর্দু লেখক, তা হ’লে মোটেই অত্যুক্তি বলা হবে না। তাঁর প্রতিটি রচনাই এমন যার ধ্বংস নেই; মৃত্যুহীন, অমর— এহেন ব্যক্তি সম্বন্ধে তখন থেকেই আমার ওপরের ধারণায় আমি অটল- অনড়। কেননা আনদাতা’র প্রথম সংস্করণের সঙ্গে সঙ্গেই যখন আমি লোয়ার সার্কুলার বোডস্থিত তাঁরই জনৈক হিন্দ স্থানী প্রকাশক লেখক বন্ধু সৈয়দ শফী হায়দার কাওসারের বুক ডিপোতে বসে দ্রুত অনুবাদ করে যাচ্ছিলাম, তখন আমায় ‘তদাতা’র সুবিধের জন্যে স্বয়ং কাহিনীকার ও আমার সঙ্গে সঙ্গেই ছায়ার মত ছিলেন— তখনো পাকিস্তান কায়েম হয়নি। আবার যখন আমার এক বোনের বান্ধবীর সম্পর্কে ছোট ভাই’র মর্যদাপ্রাপ্ত চিত্র সাংবাদিকতার একচ্ছত্র আধিপত্যের অধিকারী সাপ্তাহিক চিত্রালী সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ ‘তার একটি উদ্দেশ্য নিয়ে’ আন দাতার লেখকের স্বহস্থ লিখিত ৫৩ পৃষ্ঠায় ‘শয়তানকা ইসতিফা’র পাণ্ডুলিপির অনুবাদ ‘শয়তানের পদত্যাগ’ ১৯৬৮’র ৪ঠা অক্টোবরের ‘চিত্রালী’তে ছেপে দিলে ; তারপরেই দীর্ঘ দিনের জন্যে ‘মৌলিক রচনার অভিযোগে’ আমি হ’য়ে গেলাম পুতুল রাজার কোপ দৃষ্টির কুপে নিক্ষিপ্ত– তখনো বাংলাদেশ ছিল না৷ আজো আমি তাঁর সম্বন্ধে আগের সে মন্তব্যেই অটল-অনড়। বর্তমানে তো আছেই ভবিষ্যতেও আমি বলবো এবং বলে যাবো কৃষণ চন্দর একটি অবিস্মরণীয় নামের তুলনাবিহীন প্রতিভা। তাঁর রচনার অনুবাদ নিয়ে আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য হচ্ছে- সৎ উদ্দেশ্যে যদি কেউ ব্যবসায় নামে তা হলে ভুতেও টাকা জুগিয়ে দেয়৷
–ব’নজীর আহমদ
এক বেশ্যার চিঠি
কৃষণ চন্দর
ভাবানুবাদ : নেপাল ভৌমিক
আগামী প্রকাশনী, ৩৬ বাংলাবাজার ঢাকা-১
প্রকাশকাল : ১৯৮৬
প্রকাশক : কামরুন নেসা নার্গিস
৩২ পাতলাখান লেন, ঢাকা—১
প্রচ্ছদ : সুখেন দাস
মুদ্রণে : স্বরবর্ণ প্রিন্টার্স, ৫২ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা–১
মূল্য : ১২ টাকা