আটই আগষ্ট। মঙ্গলবার। ইঞ্জিনীয়ারিং ইনষ্টিটিউটে তোমাদের আহবানে রবীন্দ্র মৃত্যু বার্ষিকী উদযাপিত হবে। সকাল থেকে নানা চিন্তার ধোঁয়া আমার মনে কেবলই কুণ্ডলী পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে। কেন তোমরা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এতে। মেতে উঠলে ? তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীটা এতো জাঁক জমকে কেন করতে যাচ্ছো ? এটা কি তোমাদের আত্মচেতনার উন্মেষ না নিছক ভাবপ্রবণ লৌকিকতা ? প্রশ্ন, আমার মনে কেবলি প্রশ্ন ! অতল। অতনু। তাইতো মীমাংসাহীন। চিন্তার এ গুরুভার বোঝা বয়েই বিকেল ছয়টায় চলেছিলাম তোমাদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। মনে মনে আশা, যদি আলে। পাই৷ পাই মীমাংসা। কিন্তু বিধি বাম! তোমাদের অনুষ্ঠানের বদলে আচমকা আমাকে আসতে হলো ঢাকা জেলে। তোমাদের অনুষ্ঠানে আর যাওয়া হলো না। প্রশ্ন আমার অমীমাংসিতই রয়ে গেলো।
আটই আগস্ট সন্ধ্যারাত আটটায় ঢাকা জেলের লৌহ কপাট আমাকে হা করে গিলে ফেললো। বিরাট এ রাক্ষসের বিশাল উদরে একটা পিঁপড়ের মতোই এক কোণে আমি স্থান পেলাম। প্রকৃতির মুক্ত বাতাস মুক্ত আকাশ আমার কাছে হারাম হয়ে গেলো। হারাম হয়ে গেলো আমার জন্মগত চলার ও বলার অধিকার। রামায়ণে পড়েছিলাম যে, কোন একট। দুর্দান্ত রাক্ষস এক মুনি-ঋষিকে খেয়ে ফেলে- ছিল।
কিন্তু সে মুনিকে হজম করতে পারলোনা। মুনি ঐ রাক্ষসের পেট চিরে বেরিয়ে এলেন। রাক্ষসেরও পঞ্চত্ব ঘটলো। আমি মুনি-ঋষি নই। তাঁর মত তপস্যাও আমার নেই। আপাততঃ বিসমিল্লা বলে এখানেই থেকে যেতে হবে। আশা করতে হবে সে দিনটির, যে দিন জেল আমাকে উগরে ফেলে দিতে বাধ্য হবে।
মুক্তপ্রাণ
সত্যেন সেন
(প্রবন্ধ সংকলন)
জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী৷ ঢাকা
প্রকাশকাল : আষাঢ় ১৩৮৭, জুলাই ১৯৮০
প্রচ্ছদ : আবদুল মুকতাদির
মূল্য : ছয় টাকা
প্রকাশক : মফিদুল হক, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী, ১০ পুরানা পল্টন, ঢাকা॥
মুদ্রক : সুবর্ণ মুদ্রায়ণ, ৭৮/২-এ, রামকৃষ্ণ মিশন রোড, ঢাকা।