বর্মা আর পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের তথ্য আর তত্ত্বকে যাঁরা উপন্যাসের ঘটনার মতো সজীব তুলতে পারেন, শ্রী জিতেন ঘোষ তাঁদেরই একজন।
কারণ, শ্রী জিতেন ঘোষ বাংলার অগ্নিদিনের সেই অভিযাত্রীদের অন্যতম, যাঁরা তাঁদের অশান্ত ও অক্লান্ত বিপ্লবী জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ে বর্ম। আর পাক-ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে শরিক ছিলেন। বর্মা আর পাক-ভারত উপমহাদেশের মানুষ এই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উচ্ছেদ সাধনে নিয়োজিত ছিল বলে স্বাভাবিকভাবেই সেই অগ্নিদিনের কর্মীরা যেখানে যেতেন সেখানেই জনগণের সঙ্গে গভীর আত্মীয়তাসূত্রে আবদ্ধ হতেন । শ্রী জিতেন ঘোষ তাঁর যৌবনের দিনে বর্মা গিয়েছিলেন চাকুরীর খোঁজে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জড়িত হয়ে পড়েছিলেন সেখানকার নবজাগ্রত মানুষের সুখে, দুঃখে, সংগ্রামে । সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানকার জনগণের সর্বতোমুখী মুক্তি সংগ্রামের অজস্র ছবি জমিয়ে রেখেছিলেন মনের মণিকোঠায়। অগ্নিদিনের বর্মার কথা যদি তিনি না বলতে পারেন, তবে আর কে বলবে ? অক্লান্ত কর্মী শ্রী জিতেন ঘোষের শরীর আজ জরাজীর্ণ। চোখ প্রায় যেতে বসেছে। কিন্তু জীবন সম্বন্ধে অদম্য আশাবাদী এই মানুষটি যে স্মৃতিকথা শুনিয়েছেন, তা’ সংক্ষিপ্ত হলেও প্রীতি, চেতনা ও প্রাণপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ । অগ্নিদিনের বর্মার ছবিগুলি যে গভীর সত্য, সংকল্প ও মানবতার আলোকে উদ্ভাসিত, সে আলোকে অতীতই যে শুধু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তা নয়, ভবিষ্যতের দিগন্তও জাগ্রত হয়েছে ।
– রণেশ দাশগুপ্ত
অগ্নিদিনের বর্মা
জীতেন ঘোষ
প্রথম প্রকাশ : ভাদ্র ১৩৭১
দ্বিতীয় মুদ্রণ : চৈত্র ১৩৭৫, তৃতীয় মুদ্রণ বৈশাখ ১৩৭৯
তৃতীয় সংস্করণ বধিত কলবরে প্রকাশিত হইল৷
প্রকাশক : এম, এ, আলিম
কালিকলম প্রকাশনী, ৩৪, বাংলাবাজার, ঢাকা–১
প্রচ্ছদপট : নিতাই কুমার সাহা
মুদ্রণে : কাজী আবদুল ওয়াদুদ
বি, জে, প্রেস, ১৩, কারকুন বাড়ী লেন, ঢাকা-১
দাম : এক টাকা পচাত্তর পয়সা মাত্র।