সত্যেন সেন, আমাদের সত্যেনদা, তাঁর ‘মা’ উপন্যাসের প্রথমে ভূমিকায় কোন বক্তব্য না রেখে উপন্যাসের শেষে একটি ব্যক্তিগত নিবেদন পেশ করেছিলেন।
সে ১৯৭০ সালের কথা। ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকা তাঁর দৃষ্টিশক্তি প্রায় বিনষ্ট। বয়স ৬৩ অতিক্রম করেছে। শেষ পৃষ্ঠার নিবেদনে লিখেছিলেনঃ “দৃষ্টিহীনের এই প্রথম নিবেদন নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি । লেখা আমার পেশা, আমার জীবিকা অর্জনের একমাত্র পথ । কিন্ত সেটাই একমাত্র কথা নয় । তার চেয়েও বড় কথা । লেখার মধ্য দিয়ে আমি জনসাধারণের জীবনচিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে এবং তাদের সংগ্রামসঙ্কুল অগ্রগতির পথে শরীক হতে চেষ্টা করি । দৃষ্টিশক্তি হারাবার ফলে সেই পথে এক দুর্লংঘ্য বাঁধার সৃষ্টি হয়েছে। কিন্ত তা হলেও সেই বাঁধাকে ঠেলে পথ করে নিয়ে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে । থামবার কথা আমি ভাবতে পারি না । আমি আপনাদের কাছ থেকে আমার জন্য সহৃদয় সহানুভূতি আর শুভেচ্ছা কামনা করি ।”
এরূপ শারীরিক কোন দুর্বলতার কথা সত্যেনদা জীবনে বোধ হয় এই প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন । দৃষ্টি- শক্তিহীন সত্যেন সেন। তাঁর এই আবেদন তাই আমরা যারা সত্যেনদাকে দেখেছি, তাঁর স্নেহ সাহচর্য লাভ করেছি, তাদের মনে মমতা এবং বেদনার সঞ্চার করে । কিন্ত অনির্বার ছিলেন আমৃত্যু কর্মী সাহিত্যিক সংগ্রামী সত্যেন সেন । কিন্ত এই আবেদনও নিশ্চয়ই তিনি নিজের হাতে লিখতে পারেন নি। পুরো ‘মা’ উপন্যাসও নয় । কে তাঁর প্রতি সেদিন সাহায্যের হাত এগিয়ে দিয়েছিলেন?
তাঁর কথা অন্য পাঠকরা না জানতে পারেন কিন্ত আমরা নিকটজনরা তার কথা বিস্মৃত হই কেমন করে?
তাঁর নাম হেলেন করিম। সাংবাদিক এম.এ করিম সাহেবের স্ত্রী। স্কুলের পড়াও তখন শেষ করেন নি। এরই মধ্যে সংসার পেতেছেন। এমন দিনে সত্যেনদার সহকর্মী সুনীল রায় সত্যেদাকে হাতে ধরে নিয়ে এসে হেলেনের প্রযত্নে তাকে প্রতিষ্ঠা করে গেলেন। হাজার হাজার পৃষ্ঠার গল্প-উপন্যাস গ্রাম পথে হাঁটার কথা মায়াময় ভাষায় সত্যেন সেন প্রকাশ করেছেন । কিন্তু ব্যক্তিগত
সত্যেন সেন
হেলেন করিম
প্রকাশক : অক্ষরবৃত্ত
১৩৫ শাঁখারী বাজার ঢাকা-১১০০
প্রথম প্রকাশ : কার্তিক ১৪০০ নভেম্বর ১৯৯৩
গ্রন্থস্বত্ত্ব : পলাশ তমাল পিয়াল তরু
প্রচ্ছদ : হামিদুল ইসলাম
কম্পোজ : এম এ কম্পিউটার
১৬৪/১ ডিআইটি এক্সটেনশন রোড, ঢাকা-১০০০
মুদ্রণ : নন্দিনী প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশনস ৫৫/বি ইনার সার্কুলার রোড, শান্তিনগর ঢাকা-১২১৭
দাম : ১১ টাকা