তিরিশের দশকে উপমহাদেশের পরাধীনতার তমসাচ্ছন্ন অন্ধকার দিনগুলোতে সারা উপমহাদেশের যুব সমাজ মাতৃভূমিকে ‘মুক্ত করবো অথবা মরবো’ এই স্থির প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞা নিয়ে বৃটিশ উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জীবন-পণ সংগ্রাম শুরু করেছিল, হাসতে হাসতে ফাঁসির রশিকে বরণ করে নিয়েছিল, সুদূর আন্দামানে অশেষ কারা-যন্ত্রণা ভোগ করেছিল। তারই কিছুটা ইতিহাস এই বইটিতে ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞ- তার ভিত্তিতে দেশপ্রেমে, চরিত্রে, ত্যাগে ও বীরত্বে সেই ইতিহাস ছিল মহিমাময়। ঐতিহ্যবিহীন কোন জাতি বাঁচতে পারে না, টিকে থাকতে পারে না। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই আজ কারো বুঝতে কষ্ট হয় না সেই ঐতিহ্য ও গৌরবপূর্ণ ইতিহাস অবলম্বন করেই স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে। সুতরাং এই ইতিহাসকে জানার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি, বরং মুক্তি সংগ্রামের ভিত্তি প্রস্তর হিসাবে প্রয়োজন বেড়েছে। সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখেই স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের হাতে বইখানি তুলে দিচ্ছি ।
বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে পলাতক জীবনে ১৯৭০-৭১ সালে এ বইটি লেখা। বইটি আজ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। আমি কর্মী, আমি লেখক নই। কাজের চাপে যথেষ্ট সময়ও দিতে পারিনি। আশা করি দেশবাসী এই বইটি পড়ে জিজ্ঞাসা ও চিন্তার কিছুটা খোরাক পাবেন—এই ভরসা নিয়েই এই বইটি লেখা ।
৮ই ফাল্গুন, ১৩৮১
বরিশাল
ইতি
– নলিনী দাস
স্বাধীনতা সংগ্রামে দ্বীপান্তরের বন্দী
নলিনী দাস
প্রকাশনা : এম, আবদুল হক
প্রকাশ ভবন, ৫ বাংলা বাজার, ঢাকা – ১
প্রচ্ছদপট : সুবোধ দাশগুপ্ত
প্রথম প্রকাশ : বৈশাখ, ১৩৮২
এপ্রিল, ১৯৭৫
মুদ্রণে : শফিক আহম্মেদ
দি পপুলার প্রেস, ২৪, শ্রীশদাস লেন, ঢাকা — ১
দাম : তের টাকা পঞ্চাশ পয়সা