আমার গ্রন্থ পরিকল্পনায় কিছু নতুনত্ব দাবী করি। আমার ধারণা হয়েছে বিদেশী গ্রন্থপাঠে, বেশীর ভাগ পণ্ডিতগণই ‘শিল্প’, শিল্পজনিত ‘সুন্দর’ সৃষ্টি এবং সুন্দর বস্তুর আস্বাদনে ‘আনন্দচেতনা’-এই তিনটি পর্যায়কে স্থিরনির্ণয় করেন নি। আমি প্রথমাবধি এই বিভাজন দ্বারা একটি বৈজ্ঞানিক ক্রম স্থির করেছি। সঙ্গীতপ্রসঙ্গে সুন্দরের ধারণাকে তৃতীয় পর্বে রেখেছি। কিছু কিছু বাঙ্গালী লেখকদের গ্রন্থেও ভারতীয় শিল্পতত্ত্ব, সৌন্দর্যদর্শন ইত্যাদির ব্যাখ্যা বিশেষ নেই—তাঁরা প্রায় সকলেই ইউরোপীয় পণ্ডিতগণেরই দ্বারস্থ হয়েছেন৷ আমি ভারতীয় এবং ইউরোপীয় পণ্ডিতগণের বক্তব্য যথাসম্ভব সমানভাবে উদ্ধার করে তুলনামূলক বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছি। দার্শনিক পরিভাষা বর্জন করেছি। সহজ ভাব এবং অভিজ্ঞতালব্ধ শব্দাবলী দিয়ে বিষয়টিকে বোঝাবার চেষ্টা করেছি। কিছু বক্তব্য, কিছু উদ্ধৃতির পুনরুক্তি ঘটেছে। আমি সেখানে নিরুপায় । যদি কিছু ভুল থেকে থাকে সহৃদয় পাঠকগণ জানালে পরবর্তী সংস্করণে স্বীকৃতি সহকারে সংশোধন করব। প্রুফ দেখার কিছু ভুল থেকে গেলো। আশা করি সুধী পাঠক এবং ছাত্রছাত্রীগণ তা অনায়াসেই ঠিক করে নিতে পারবেন।
রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নন্দনতত্ত্ব চর্চায় অগ্রণী ছিলেন। কুমারস্বামী এবং ‘অবনীন্দ্রনাথ এযুগে আমাদের পথিকৃৎ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, বিশেষত বিশ্বভারতী এবং রবীন্দ্রভারতীর কর্তৃপক্ষ ভেবে দেখতে পারেন, ইস্থেটিকস্কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয়রূপে স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত করা যায় কিনা। গ্রন্থটি রচনার মুহূর্তে আচার্য শ্রীনীহাররঞ্জন রায়ের উৎসাহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে । তিনি আমার ভয় ভাঙ্গিয়েছেন এই বলে, ‘ইসথেটিকস্ চর্চায় একজন কবির অধিকার দার্শনিকের চেয়ে কম নয়।
শ্রীপঞ্চমী ১৩৮৭, ফেব্রুয়ারী ১৯৮১
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
অরুণ ভট্টাচার্য
জোড়াসাঁকো, কলকাতা।
নন্দনতত্ত্বের সূত্র
অরুণ ভট্টাচার্য
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ১৯৮১
প্রচ্ছদশিল্পী : মলয়শংকর দাশগুপ্ত
প্রকাশক : সুনীল দাশগুপ্ত
উত্তরসুরি প্রকাশনী
১বি-৮ কালীচরণ ঘোষ রোড, কলিকাতা-৫
মুদ্রক : রমেন্দ্র চন্দ্র রায় ॥ প্রিন্টস্মিথ, ১১৬ বিবেকানন্দ রোড, কলিকাতা
প্রাপ্তিস্থান : ইণ্ডিয়ানা, ২/১ শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, কলিকাতা-৭৩
মূল্য : ২৫ টাকা