মার্কসীয় দর্শনে পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রবাদের অনিবার্য্য সংঘর্ষতত্ত্ব একটি মূল তত্ত্ব৷ তাই কার্ল মার্কস ও লেনিনের আদর্শের আঙ্গিকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান তত্ত্ব কতটা মার্কসবাদ-লেনিনবাদ তত্ত্বসম্মত, কতটা আদর্শভিত্তিক বা কতটা কৌশলগত পদক্ষেপ সেই বিষয়ে আলোচনা নিয়েই এই পুস্তকের সুরু।
পুঁজিবাদী দেশগুলি যখন মার্কস-লেনিনের ভবিষ্যদ্বাণীর দিকে কটাক্ষ হাসি হেসে আত্মবিধ্বংসী যুদ্ধের অনিবার্য্য বহুৎসবে না মেতে আপোষ- সমঝোতা করে এগিয়ে চলেছে,—তখন সমাজতান্ত্রিক শিবিরভুক্ত ভ্রাতৃপ্রতিম মার্কস-লেনিনের আদর্শে বিশ্বাসী দেশগুলি আত্মঘাতী সংঘর্ষের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে। যুদ্ধ যুদ্ধই — বিবদমান যুদ্ধরত দুই পক্ষ পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র অথবা এক পক্ষ পুঁজিবাদী আর অপর পক্ষ সমাজতান্ত্রিক—তাতে এসে যায় কি ? উভয় ক্ষেত্রেই পরিণতি মানব সমাজের কাছে একই—সামগ্রিক ধ্বংস ও পরিকল্পিত গণ-হত্যা৷ কি পুঁজিবাদী কি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যুদ্ধরত পুষ্পকরথ যখন আনবিক ফুলঝুড়ি বর্ষণ করবে তখন শুধু ‘বুর্জোয়ারাই” শেষ হবে না—‘সর্বহারারাও হবে৷
মার্কসবাদী-লেনিনবাদী তত্ত্ব সম্বন্ধে কয়েকটি তাত্ত্বিক প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা পাঠক সমাজের কাছে উত্থাপন করেছি জিজ্ঞাসুর মন নিয়ে— নূতন করে মূল্যায়নের জন্য। এদেশে সমাজতন্ত্র ও রাজনৈতিক গণতন্ত্রের আদর্শে আস্থাবান যাঁরা তাঁদের বিচারের জন্য ভারতীয় রাজনীতির আঙ্গিকে-ও কয়েকটি জিজ্ঞাসা রেখেছি। সমালোচকদের যুক্তি ও তথ্যপূর্ণ সমালোচনা ও মতামতের জন্য গভীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করব।
ইতিহাসের পর্য্যালোচনা অনেক ক্ষেত্রে তিক্ত হতে বাধ্য। আন্তরিকতা- বিহীন অসত্য বক্তব্যকে ভোটের লোভে প্রশংসার মোহে কূটনীতির মিষ্টি ভব্য ভাষার পোশাকী মোড়কে পরিবেশন করার চাইতে আন্তরিকতাপূর্ণ, হৃদয়ের উপলব্ধি-সিঞ্চিত তিক্ত সত্য-কথা সরাসরি স্পষ্টভাবে বলা অনেক ভাল৷ সেই দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েই আমার কথাগুলো বলেছি।
মার্কসবাদ-লেনিনবাদের কতকগুলি তত্ত্ব ও তার প্রয়োগে অসঙ্গতি, স্লোগান ও আচরণের মধ্যে—কতকগুলি বৈপরীত্য— দেখাবার চেষ্টা করেছি। সমগ্র মার্কসীয় তত্ত্বের আলোচনা করা সম্ভব হয় নি। মার্কসবাদী-লেনিনবাদীরা…
মার্কসবাদ লেনিনবাদ তত্ত্বে ও প্রয়োগে
কাশীকান্ত মৈত্র
প্ৰথম প্ৰকাশ : মহালয়া, ১৩৭৭ অক্টোবর, ১৯৭০
প্রকাশক : কল্যাণব্রত দত্ত
তুলি-কলম
১, কলেজ রো, কলকাতা-৯
মুদ্ৰক : সুশীলকুমার গোস্বামী
মহাপ্রভু প্রেস
১৫, পটুয়াটোলা লেন, কলকাতা-১
প্রচ্ছদ শিল্পী : জহর দাস
মূল্য : বারো টাকা