এ যেন এই সহরেরই আর ঢাকা নগরীর বুকে বসিয়া তাহার অফিসের সম্মুখ দিয়া গাড়ীতে উঠিয়া বসিয়া বাহিরের ব্যস্ত-উদ্বেগ-উতলা মুখর জনতার দিকে তাকাইয়া তাকাইয়া রাজেন যেন কেমন এক নেশায় তন্ময় হইয়া পড়িল ! সত্যই এ তাহার ভারি ভাল লাগে। এক নূতন রূপ। কেমন আকর্ষণে ভরা ! প্রতিনিয়তই সে এমনি জনতা দেখে। ব্যস্ত-মানুষের এমনি উদ্বেগ-উতলা স্রোত সকাল হইতে সন্ধ্যা, প্রতিদিন এমনি বহিয়া যায়। কিন্তু চোখ দুইটি তাহা দেখিয়া এমন কোন দিন তন্ময় হয় না-নেশা লাগে না মনে। বরং সময় সময় কেমন বিরক্তি আসে। প্রতিদিনের দেখা একই প্রবাহে বহিয়া যাওয়া জনতায় যেন কোন নূতনত্ব নাই—নাই কোন আকর্ষণ নিজের কাজে আসিয়াছে— নিজের কাজ লইয়াই মাতিয়া কে কোথায় ছুটিয়া চলিয়াছে। কাহারও কোন ভ্রুক্ষেপ নাই। ইহাদেরই কতজন দলছাড়া হইয়া কখন কখন তাহার সুসজ্জিত অফিসের অত বড় কামরা ভরাইয়া ফেলিয়াছে, কাজ-কাম অফুরন্ত—প্রশ্ন আর প্রয়োজনে সকলকে শ্রান্ত করিয়া তুলিয়াছে। ইহারা মা-লক্ষ্মীরই অগ্রদূত। ইহাদেরই অনুকম্পা আশ্রয় করিয়া তাহার বৈভবের পাহাড় উচ্চ হইতে হইতে অভ্রভেদী হইয়া উঠিতেছে। তবুও ইহাদের প্রতি যেন তাহার কোন মায়া জাগে না । ইহাদিগকে দেখিয়া মন আহ্লাদে নাচিয়া উঠে না, প্রসন্ন মনে সৌভাগ্যের দূতদিগকে সমাদর জানাইতে সে যেন একটুও আনন্দ পায় না। বরং মনের মধ্যে কোথায় যেন একটু মুক্তির জন্য করুণ আবেদন জাগিয়া উঠে। এই সব ভার হইতে মুক্ত হইয়া মন কোথায় ছুটিয়া পলাইতে চায়। ঐ জনতার মতোই ছুটিয়া দৌড়িয়া নিজের অস্তিত্বকে পর্যন্ত উহাদের সহিত মিশাইয়৷ দিয়া কিসের আশায় কোথায় যাওয়ার জন্য মন যেন আকুলি-ব্যাকুলি করে। স্বাধীনতা—নিজের কাজেও যেন স্বাধীনতা নাই। নিজের কাজের নিয়ম-শৃঙ্খল যেন আরও দয়াহীন!
দাসত্ব—চাকরির চেয়েও কাহারও কাছে মনের এ দৈন্য জানাইবার উপায় নাই,—ক্লান্ত-মনের বিষণ্ণতা দূর করিবার জন্য
অদ্ভুত এ এক স্বাধীনতা !
একটু ছুটির প্রার্থনাও জানাইবার কোন স্থান নাই ! লোকের পরম ঈর্ষার বস্তু ! জীবনান্ত আর বলে কাহাকে !
একদা নিশীথে
শ্রী মণীন্দ্র চন্দ্র সাহা
প্রকাশ করেছেন : সুরেন্দ্র নাথ ঘোষ
ইষ্ট বেংগল পাবলিশার্স
৪৫নং পাটুয়াটুলী, ঢাকা
ছেপেছেন : এম. এ. মুকিত
পাইওনিয়ার প্রেস
২নং রমাকান্ত নন্দী লেন, ঢাকা
প্রচ্ছদপট এঁকেছেন : আবুল কাশেম
দাম : তিন টাকা আট আনা
প্রথম সংস্করণ : ১৩৬৫