প্রতিদিন ভোর না হতেই কারখানার বাঁশি বেজে ওঠে। মজুর-বস্তির মাথার উপর ঝুলে থাকা ধোঁয়াটে তেলচিটে আকাশটাও আঁতকে ওঠে বাঁশির সেই কাঁপা কাঁপা সুরে। পেশীগুলো সতেজ হয়ে ওঠার আগেই শমনের মতো সেই ডাকে ধড়ফড় করে ওঠে পড়ে বস্তির মানুষ। অন্ধকার লেপ্টে থাকা খুপরিগুলো থেকে ঘুম জড়ানো চোখে তারা বেরিয়ে আসে ভয়-পাওয়া তেলাপোকার মতো। বস্তির ওপারে দাঁড়িয়ে আছে কারখানাটি তার পাথুরে উদ্ধত চেহারা নিয়ে। কাদা আর আবর্জনায় ডুবে থাকা পথটি দিয়ে তারা এগিয়ে চলে সেই দিকে। তাদের মুখে থাকে নানা ধরনের কুৎসিত খিস্তি, গালাগাল। সে গালাগাল কার উদ্দেশে তা বোঝা মুশকিল। সন্ধ্যায় সে পথ দিয়েই তারা আবার ফিরে আসে। ঢুকে পড়ে নিজের নিজের খুপরিতে। তখন তারা অবসন্ন, ক্লান্ত, কারখানার উগরে দেয়া পোড়া কয়লার ছাইয়ের মতো। ওদের দিনগুলোকে গিলে খায় কারখানাটা, নিংড়ে নেয় একটু একটু করে শক্তি। এমনি করেই ওদের জীবন থেকে খসে পড়ে একটি একটি করে দিন, ক্ষয় হয় একটু একটু করে আয়ু, ধীরে ধীরে এক পা এক পা করে ওরা এগিয়ে যায় কবরের দিকে।
রোববার সবারই ঘুম ভাঙে দেরীতে। সংসারী মানুষেরা সাফ জামাকাপড় পরে যায় গীর্জায়, বাড়ি ফিরে আবার ঘুম। হাড়ভাঙা খাটুনিতে দুমড়ে যাওয়া শরীরটাকে সন্ধ্যায় টেনে নিয়ে যায় শুঁড়িখানায়। ভদকার ঝাঁঝালো তেজে শরীরটা যেন কিছুটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। রাস্তায় কারো সাথে দেখা হলে সেই একই কথা; কারখানা, যন্ত্র, অমানুষিক খাটুনি, ফোরম্যান ইত্যাদি। এসব ছাড়া যেন ওদের আর কোন কথা জানা নেই। কেউ কেউ আকণ্ঠ মদ গিলে এসে বউকে ধরে ঠ্যাঙায়, ছেলেপুলেকে বাপ-মা তুলে করে গালাগাল। তাদের চোখেমুখে কি এক অজানা যন্ত্রণা আর আক্রোশের ছাপ। যাদের বয়স কম, বন্ধুদের নিয়ে তারা আড্ডা জমায়। কখনো কখনো নিজেরাই মারামারি করে। রক্তারক্তি পর্যন্ত হয়। চ্যাংড়া বয়সের ছেলেরা রোববারে বাড়ি ফিরে অনেক রাত করে। বাড়ি ফিরে মাতাল হয়ে। জামাকাপড় থাকে ছেঁড়া ধূলিকাদা মাখা। কেউ কেউ হয়তো ফেরেই না। বেহুঁশ অবস্থায় পড়ে থাকে রাস্তায়…
কিশোর গ্রন্থমালা
মা
ম্যাকসিম গোর্কি
সংক্ষেপণ : মোজাম্মেল হোসেন
বাংলা একাডেমী, ঢাকা
প্রথম প্রকাশ । ফাল্গুন ১৩৯৫। ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯
প্রথম পুনর্মুদ্রণ : শ্রাবণ ১৩৯৮। জুলাই ১৯৯১
প্রকাশক : মুহম্মদ নূরুল হুদা
উপপরিচালক
বিপণন ও বিক্রয়োন্নয়ন উপবিভাগ । বাংলা একাডেমী, ঢাকা ।
মুদ্রণ : আশফাক-উল-আলম ব্যবস্থাপক, বাংলা একাডেমী প্রেস।
প্রচ্ছদ ও নামপত্র : কাইয়ুম চৌধুরী
অলংকরণ : আমান উল্লাহ
মূল্য : পঞ্চাশ টাকা মাত্র