দণ্ডকারণ্যে নতুন মানুষ নতুন পৃথিবী গড়ছে আজ।
নতুন ঘর, নতুন ফসল। দিকে দিকে তারই সম্ভাবনা।
ঘরের খোলা জানলা-পথে সীমার চিঠিটা হাতে নিয়ে পড়তে পড়তে বাইরের দিকে তাকাল রমা।
সীমা লিখেচে : দিদিমণি, তুমি যাবার সময় বলে গিয়েছিলে, আমার সন্তান জন্মাবার পর তাকে তুমি এসে নিয়ে যাবে। কবে আসচো ?
দণ্ডকারণ্যে গিয়ে আমাদের কথা একবারও তোমার মনে পড়ে না ! ও বলে তুমি নাকি আমাদের আজ একেবারে ভুলেই গিয়েছো। আর, তুমি নাকি কোনদিনই আসবে না৷ সত্যি কি তাই দিদিমণি ? আমার কিন্তু বিশ্বাস হয় না। আমি বলি, না গো না, দিদিমণি আসবে, তুমি দেখো, নিশ্চয়ই আসবে।
জান, সেদিন ওর সঙ্গে কলকাতার রাস্তায় নন্দদার সঙ্গে দেখা হয়েছিল, আমাদের গ্রামের নন্দদাকে নিশ্চয়ই তোমার মনে আছে ! রাঙাদিকে নন্দদা বিয়ে করেচে। তারা কলকাতাতেই থাকে। শিল্পী হিসাবে নন্দদার আজ সারা কলকাতা শহরে নাম৷
ও সেদিন কি বলছিল জানো, তুমি না এলে আমরা সবাই এবারে তোমার ওখানে গিয়ে একদিন হাজির হবো।
চিঠিটা পড়তে পড়তে মৃদু হাসল রমা।
সেই অবুঝ আব্দারে সীমা আজও তেমনিই আছে।
পাশের ঘর থেকে হরনাথের কাশির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
ও পাড়ার কবিরত্ন মশাইয়ের কাছ থেকে বাবার কাশির একটা
‘ওষুধ নিয়ে আসতেই হবে।
এখানকার দাতব্য চিকিৎসালয়ের
ডাক্তারের ওষুধ খেতে বাবা কিছুতেই রাজী নন।
হঠাৎ চিন্তাসূত্রটা ছিন্ন হয়ে গেল রমার।
দিদিমণি, দিদিমণি—
আট দশটি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সোরগোল তুলে ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়।…
পোড়ামাটি ভাঙ্গা ঘর
নীহার রঞ্জন গুপ্ত
প্রকাশনী ৫, শান্তিবাগ, ঢাকা
প্রকাশ করেছেন : আবদুল অদুদ খান
২০/১ শান্তিবাগ, ঢাকা
ছেপেছেন : অবনীরঞ্জন মান্না
নারায়ণ মেশিন প্রেস
ওয়ারী, ঢাকা
প্রচ্ছদ কল্পনা : শ্রীবিভূতি সেনগুপ্ত
মূল্য : নয় টাকা