সর্বঘটে নারদ। শিবের বিয়ে; ঘটকালি করছেন নারদ। বামণের পৈতে; সর্দারি করে বেড়াচ্ছেন নারদ। ধ্রুবের তপসা; কানে মন্ত্র দিচ্ছেন নারদ। দক্ষের সর্বনাশ, তাতেও নারদ। শিশুপালের অত্যাচারে জগৎ অতিষ্ঠ; নারদ সেখানে পরিত্রাণের উপায় বাৎলাচ্ছেন। নারদ ছাড়া পুরাণ নাই।
কেমন দেখতে নারদকে?
মাথায় চুল যেন শণের নড়া; পরণে স্বর্নচীর; হাতে হেমদণ্ড, কমগুলি আর অতি-বিচিত্র কচ্ছপীবীণা।
সেই নারদ একদিন গেলেন আচার্য সনৎকুমারের কাছে। গিয়ে বললেন, ‘গুরুমশাই, আমাকে তালিম দিন’।
সনৎকুমার বললেন, আগে বলো, তোমার বিদ্যের দৌড় কতদূর?
……..সবকিছু শুনে সনৎকুমার বললেন, ‘এসমস্তই নিছক নাম। যে পর্যন্ত নামের দৌড়, সেই পর্যন্ত তুমি স্বাধীন।’
নারদ জানতে চাইলেন, ‘নামের চেয়ে বড় কিছু আছে কি?’
উত্তরে সনৎকুমার বললেন, ‘নিশ্চয়ই আছে। নামের চেয়ে বড় হলো কথা। কথা না খাকলে কিছুই জানা যেেত না।…
নারদের ডাইরি
সুভাষ মুখোপাধ্যায়
প্রকাশক : শ্রীগোপলদাস মজুমদার
ডি. এম. লাইব্রেরী
৪২ কর্ণওয়ালিশ ষ্ট্রীট, কলিকাতা-৬
প্রথম প্রকাশ : বৈশাখ ১৩৭৬
মূল্য : সাড়ে তিন টাকা