আমার বয়েস তখন বত্রিশ বছর, মার, সিয়ার উনত্রিশ, আর আমাদের ছোট্ট সভেতলানার সাড়ে ছয়।
সে বছর আমি ছুটি পেলাম গ্রীষ্মের শেষে, কাজেই গ্রীষ্মের শেষ গরম মাসটির জন্য আমরা মস্কোর কাছেই বাংলো বাড়ী ভাড়া নিলাম।
আমাতে-সভেতলানাতে ঠিক হয়েছিল যে আমরা মাছ ধরব, সাঁতার কাটব আর বনে গিয়ে বাদাম কুড়াব, ব্যাঙের ছাতা তুলব। কিন্তু প্রথমেই আমাদের উঠোন সাফ করতে হল, মেরামত করতে হল নড়বড়ে বেড়াটা, কাপড় শ কোনোর দড়ি টাঙাতে হল আর হাতুড়ি দিয়ে ঠুকতে হল গজাল আর পেরেক।
কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা তিত-বিরক্ত হয়ে উঠলাম, কিন্তু মার, সিয়া নিজের জন্য আর আমাদের জন্য একটার পর একটা নতুন কাজ ভেবেই চলল।
আমাদের সব কাজ শেষ হল শধুমাত্র তিন দিনের দিন বিকেলের দিকে। কিন্তু ঠিক যখন আমরা তিনজনে বেড়াতে বেরোচ্ছি, এমনি সময়ে মারসিয়ার বন্ধ, সমের, অঞ্চলের এক বৈমানিক এল তার সাথে দেখা করতে।
বাগানে চেরীগাছের তলায় অনেকক্ষণ বসে রইল তারা। মনের দুঃখ চাপা দেওয়ার জন্য আমি আর সভেতলানা উঠোনের চালাটায় গিয়ে একটা কাঠের হাওয়াই লাটিম তৈরি করতে শর, করে দিলাম।
অন্ধকার হয়ে গেলে মারসিয়া সভেতলানাকে ডেকে বলল যে এবার দুধ খেয়ে শয়ে পড়তে হবে। তারপর মারসিয়া বন্ধকে রেল-স্টেশনে পৌঁছে দিতে গেল।
কিন্তু মার, সিয়াকে ছাড়া আমার ভাল লাগছিল না। আর সভেতলানাও খালি বাড়িতে একা ঘুমোতে চাইছিল না।
তাই ভাঁড়ারঘর থেকে এক পেয়ালা ময়দা নিয়ে তার উপর ফুটন্ত জল ঢেলে আমরা খানিকটা আঠা তৈরি করলাম।
আমরা লাটিমের গায়ে রঙীন কাগজ এ’টে, ভাল করে সমান করে দিলাম, আর তারপর ধুলোভরা চিলাকোঠা পার হয়ে চালে গিয়ে উঠলাম।
চালের যেখানটায় আমরা ছিলাম, সেখান থেকে পাশের বাড়ির বাগান দেখা যায়। রকের কাছে একটা সামোভার থেকে ধোঁয়া উঠছে, আর বারান্দায় প্রতিবেশী নিজেই বসে আছে, বড়ো খোঁড়া লোকটি, বসে বসে একদল ছেলেমেয়েকে বালালাইকা বাজিয়ে শোনাচ্ছে।
নীল পেয়ালা
আর্কাদি গাইদার
অনুবাদ : মীরা দাসগুপ্ত
Аркадий Гайдар
ГОЛУБАЯ ЧАШКА
На языке бенгали
A. Gaidar
THE BLUE CUP In Bengali
স্কুলের ছোট বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য
রাদুগা প্রকাশন, মস্কো ১৯৮৪ সোভিয়েত ইউনিয়নে মুদ্রিত
১৭, জবোভস্কি লভার, মস্কো, সোভিয়েত ইউনিয়ন
‘Raduga’ Publishers
17, Zubovsky Boulevard, Moscow, Soviet Union