ওগো পুষাণ, ওগো পথের দেবতা, আমাকে পথ দেখাও। কে জানে কোন্ অপদেবতার মায়ায় সারা দিন এই গহীন বনে ঘুরে ঘুরে মরছি। পুষাণ, তুমি সকল মায়াবীর শ্রেষ্ঠ মায়াবী, তোমার মায়ার সামনে কার মায়া দাড়াতে পারে! সূর্যের আলোর মত প্রখর তোমার ওই তীরের আঘাতে, যারা অন্ধকারের গোপন পথে চলাচল করে, তাদের মায়াজাল ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যাক।
হে পথিকের বন্ধু, পথিকের রক্ষক, ঊর্ধ্বে আকাশ-লোক তোমার অধিষ্ঠান৷ এমন কোন্ পথ আছে যা তোমার দৃষ্টির বাইরে ? আমাদের গরু আর – মেষগুলি যখন তৃণভূমিতে চরতে চরতে পথ হারিয়ে বিপথে চলে যায়, তখন তুমিই তো তাদের পথ দেখিয়ে আন। আমি আজ পথ হারানো পশুর মতই নিরুপায়, তুমি আমাকে পথ দেখাও৷ পথ দেখাও, পথ দেখাও, ওগো দেবতা, পথ দেখাও।
সুদাস কত রকম করেই না তার প্রার্থনা জানাল। কিন্তু পুষাণ তার ডাকে সাড়া দিলেন না। দিন গেল, সন্ধ্যা হয়ে এল, সুদাস পথ খুঁজে পায় না। এমন তো কোন দিন হয় না।
কত দিন ধরে দল বেঁধে শিকার করবার সুযোগ পাওয়া যায় না। বুনো পশুগুলি কোথায় যে সব পালিয়েছে ! বন কি পশু শূন্য হয়ে গেল নাকি ? এমন অবশ্য মাঝে মাঝে ঘটে থাকে, সুদাস বুড়োদের মুখে শুনেছে। বনের দেবতারা নিয়ম ভঙ্গ করে চলতে দেখলে অপ্রসন্ন হয়ে শিকারের পশুদের এমন ভাবে আগলে রাখেন যে, তখন চোখের সামনে দিয়ে গেলেও নাকি তাদের চোখে দেখা যায় না। বুড়োরা আরও বলে, এ সব আজকালকার দিনের দোষ। এ যুগের মানুষ তো…
পুরুষমেধ
সত্যেন সেন
প্রকাশক : চিত্তরঞ্জন সাহা
মুক্তধারা
[স্বঃ পুথিঘর লিঃ]
৭৪ ফরাশগঞ্জ ঢাকা-১১০০
প্ৰথম প্ৰকাশ জুলাই ১৯৬৯
দ্বিতীয় প্রকাশ অক্টোবর ১৯৭১
তৃতীয় প্রকাশ এপ্রিল ১৯৮৭
প্রচ্ছদ-শিল্পী : হাশেম খান
মুদ্রাকর : প্রভাংশুরঞ্জন সাহা
ঢাকা প্রেস
৭৪ ফরাশগঞ্জ ঢাকা ১১০০
মূল্য : সাদা ৭৫ টাকা
লেখক কাগজ ৫৫ টাকা