প্রাচীন ব্যাকরণ-লেখকেরা এ সম্বন্ধে যাই বলুন-না কেন, প্রাকৃত হচ্ছে ‘প্রক্বতি’র বা জনগণের ভাষা। সেই হিসাবে বলতে হয়, প্রাক্কতের সংস্কার করেই গড়ে উঠেছে সংস্কৃত-ভাষা। আর এই ‘সংস্কৃত’ নামটিও খুব প্রাচীন নয়। এমনকি পাণিনি-মুনি তাঁর অষ্টাধ্যায়ী সূত্রপাঠের কোথাও আলোচনা প্রসঙ্গে সংস্কৃতকে আমাদের অর্থে গ্রহণ করেন নি। তিনি মাঝে মাঝে যে ‘ভাষা’ কথাটি ব্যবহার করেছেন তাতেই কাজ চলেছে। এতে বোঝা যায়, পাণিনির কালে যে বাগ্ধারা লোকের মুখে মুখে চলত, সংস্কৃত হচ্ছে তারই • শিষ্টজন-সম্মত রূপ। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরবর্তীকালের কথ্যভাষা স্বাভাবিক কারণে এই সংস্কৃতের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছে। আমাদের আলোচনা ক্রম- বিকশিত কথ্যভাষা অথবা প্রাকৃত ভাষা নিয়ে। পালি, বৌদ্ধসংস্কৃত, অর্ধমাগধী এবং নাটকের প্রাক্বত, এই সবই হচ্ছে প্রাকৃত ভাষা বা কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রাকৃত ভাষা
প্রাকৃত ভাষার কথঞ্চিৎ মাজা-ঘষা রূপ । এবং প্রাকৃত সাহিত্যের কথায় সাধারণত কেউ পালি ও বৌদ্ধ- সংস্কৃতের কথা ভাবে না। আমরাও সেই রীতি অনুসরণ করব, বর্তমান প্রসঙ্গে ।
প্রাকৃত মূলত জনগণের ভাষা হলেও এ ভাষার যে-সাহিত্য আমরা পাচ্ছি তা মোটেই খাঁটি গণসাহিত্য (folk literature) নয় ৷ এ সাহিত্যের যে নানা রূপ আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে তাতে সংস্কৃতের (অর্থাৎ সংস্কৃত সাহিত্যের ) প্রভাব খুব সুস্পষ্ট। অথচ এতে সংস্কৃত সাহিত্যের গভীরতা বিস্তৃতি এবং বৈচিত্র্য সব কিছুই স্বল্পতর। তবু যে এর মূল্য নেই, তা নয়। খাঁটি জনগণের সাহিত্য না হলেও এর…
প্রাকৃত সাহিত্য
শ্রীমঙ্গামোহন খোক
বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, ২ বঙ্কিম চাটুজ্যে স্ট্রীট কলিকাতা
প্রকাশ : শ্রাবণ ১৮৭৯ শক : সেপ্টেম্বর ১৯৫৭ বিশ্ববিদ্যাসংগ্রহ।
সংখ্যা ১২৬
মূল্য 0:50 টাকা
প্রকাশক : শ্রীপুলিনবিহারী সেন
বিশ্বভারতী। ৬/৩ দ্বারকানাথ ঠাকুর লেন। কলিকাতা ৭
মুদ্রাকর : শ্রীশশধর চক্রবর্তী
কালিকা প্রেস প্রাইভেট লি.। ২৫ ডি. এল. রায় স্ট্রীট। কলিকাতা ৬