অনেক কাল আগে বাংলা উপন্যাসের একটি ইতিহাস লেখার অভিলাষ আমার মনে উদিত হয়েছিল। সেই সময়ে কালেবদ্রে যখন কোন লেখক সম্পর্কে আলেঅচনামূলক কিছু লিখতাম তখন মনে মনে ভাবতাম সেই লেখাগুলি হয়তো আমার পরিকল্পিত ইতিহাসের মধ্যে অঙ্গীভূত করা সম্ভব হবে। পরে অবশ্যই যে তা হয় না। উপন্যাসের ইতিহাস লিখতে হলে প্রত্যেকটি লেখক সম্পর্কেই একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুযায়ী আলেঅচনা করা দরকার। কিন্তু আমি আলোচনায় যদিও একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করতে চেষ্টা করেছিলাম, তবু আলোচনার পদ্ধতি বিভিন্ন লেখক সম্পর্কে কম বেশী স্বতন্ত্র হয়েছে।একএকজন লেখকের আলেঅচনায় কোন বিশেষ প্রশ্ন বা সমস্যা আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বোধ হয়েছে, এবং তার আলোচনায় যতটা স্থান গ্রহণ করেছি ইতিহাসে তা হয়তো অবান্তর। তেমনি কোন কোন প্রসঙ্গে আলেঅচনা আমি হয়তো এড়িয়েই গেছি বা খুব সংক্ষেপে সেরেছি; অথচ ইতিহাসে তাদের জন্য যথানির্দিষ্ট স্থান সঙ্কুলান করা দরকার। ইতিহাস লিখতে গেলে কোন লেখকের আলোচনায় মোটামুটিভাবে এই জিনিসগুলি থাকা দরকারÑ লেখকের বিষয়বস্তুর পরিধি, তাঁর বিভিন্ন লেখার পরিচয়, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী, কোথায় তাঁর নৈপুণ্য বেশী প্রকাশিত, তাঁর কাহিনী পরিকল্পনার বিশেষত্ব, চরিত্রাঙ্কন, শিল্পী হিসাবে তাঁর মূল্য নিরূপন। তা ছাড়া থাকা দরকার, পূববর্তী ও সমকালীন সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক চিন্তাধারার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, লেখকের ও তাঁর লেখার প্রকৃতি নিরূপণ।
বাংলা উপন্যাসের ধারা
অচ্যুত গোস্বামী
প্রকাশক : সুশীলকুমার সিংহ
নতুন সাহিত্য ভবন
৩ শম্ভুনাথ পণ্ডিত ষ্ট্রীট, কলিকাতা-২০
প্রথম প্রকাশ : ভাদ্র ১৩৬৪
দাম : ছয় টাকা