ভিয়েতনামী বিপ্লবের শেষ অধ্যায়ে যথার্থ বিবরণ দেবার উদ্দেশ্যে এই বইটি লেখা হয়েছে এবং ‘ভূমিসংস্কার’ নামক যে বিশেষ পদ্ধতির কথা শুনা যায়, বইটি রচনার সময় সে বিষয়ের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। উনিবেশবিরোধী সংগ্রামকে কম্যুনিস্ট নেতৃবৃন্দ এই ‘ভূমিসংস্কার’ পদ্ধতিকে কাজে রাগান। এাঁ এমন একটা বিস্তৃত পদ্ধতি যার মাধ্যমে কম্যুনিস্টরা জনসাধারণের মনোভাবকে সম্পূর্ণরূপে কাজে লাগিয়েছে এবং এটাই হচ্ছে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের ব্যাপারে মাও সে তুং-এর বৃহত্তম অবদান। গ্রন্থকারের মতে আলেঅচ্য পদ্ধতিটিই হচ্ছে আমাদের যুগের সর্বাধিক গুরুত্ববহ নবতর আবিষ্কার।
আদর্শগত বিষয়ে মাও সে তুং-এর বড় অবদান হচ্ছে- কম্যুনিস্ট বিপ্লবের প্রধান শক্তি হিসেবে কৃষকদের নিয়োজিত করা। মাও-এর এই মতবাদ সরাসরি গ্রহণ করে উপরোক্ত পদ্ধতি সর্বপ্রথম ১৯৬২ সালে (কিছুটা আনাড়ীভাবে হলেও) হুনানের কৃষক আন্দোলনে কাজে লাগানো হয়। এই আন্দোলনের ব্যর্থতা এবং তারপর এক যুগেও অধিককাল যাবৎ চীনা কম্যুনিস্টদের উয়েনানে পশ্চাদপসরণের ফলে মাও তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার উন্নতিবিধান ও তাঁর নতুন পদ্ধতিকে আরও নির্ভুলভাবে পুর্বিন্যাস করার সুযোগ পান। এর ফলেই ১৯৪৯ সালে চীনে ক্ষমতা দখলেন পর তিনি সকল সম্ভাবনাপূর্ণ বিরোধী শক্তির মূলেৎিপাটন করে নিজের শাসনব্যবস্থাকে এমন শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করবার সুযোগ পান যাতে করে তা সম্মুখে বা পিছনেÑ সব দিকেরই ‘আকস্মিক পরিবর্তনের’ ধাক্কা সামলাতে পারে।
বিপ্লবের অন্তরালে
(উত্তর ভিয়েতনামের একটি বাস্তব কাহিনী)
মূল : হোয়াং ভ্যান চি
অনুবাদ : আনিসুজ্জামান
প্রকাশক : মহীউদ্দীন আহমদ
খোশরোজ কিতাব মহল, ১৫, বাংলাবাজার, ঢাকা
প্রথশ প্রকাশ : ডিসেম্বর, ১৯৬৫
দাম : চার টাকা মাত্র