১৮ই সেপ্টেম্বর। ১৯৫০ সাল।
এক পাখীর মতো ডানা মেলে দিয়ে জীবনের প্রথম আজ নিজের দেশের আকাশে উড়ছি। নিজের দেশের শ্যামশোভা এমন ক’রে দেখার সুযোগ হয়নি কোনদিনও। নীচে ফসলের মাঠ আর তরুলতার সবুজ। ওপরে নীল শূন্য আকাশ। সাদা কালো রঙ-বেরঙের মেঘমালার ছোঁয়া লাগছে শরীরে ও মনে। ওপর থেকে মাঠঘাট দেখে মনে হচ্ছে কে যেন পাশার ছক পেতে রেখেছে। মানুষ ও মানুষের ঘরবাড়ীগুলো দেখে গালিভারের লিলিপুটের কথা মনে পড়ছে। অনন্তকাল-স্রোতের মধ্যে বুদ্বুদের মতো মানুষের জীবন—অবিরত ফুটছে ও ঝরছে। ও ঝরছে। দুনিয়ার খেলাঘরে কয়টি মুহূর্ত কাটিয়ে দেবার জন্যে তার কত আয়োজন—আর নিজের শক্তির পরিচয়ে কি তার আনন্দ। কিন্তু ওপর থেকে এমন নির্লিপ্তভাবে দেখলে মানুষের ক্ষুদ্রতার কথা আশ্চর্যভাবে মনে প’ড়ে যায়। কি অদ্ভুত ছোট ছোট দেখাচ্ছে সব কিছু। ঘরবাড়ী লাগছে শিশুদের খেলাঘরের মতো। বাস ট্যাক্সী ট্রেনগুলোকে মনে হচ্ছে যেন তাদের খেলনা। পদ্মাকে মনে হচ্ছে যেন খেয়ালী মেয়ের হাত থেকে খসে পড়া এক টুকরো রূপালী ফিতা।…
বিলেতে সাড়ে সাত’শ দিন
মুহম্মদ আবদুল হাই
প্রকাশিকা : হাসিন জাহান
২, সেক্রিটেরিয়া রোড, ঢাকা
পরিবেশক : ষ্টুডেন্ট ওয়েজ
বাংলা বাজার, ঢাকা
কলেজ সংস্করণ: ষষ্ঠ মুদ্রণ : আগষ্ট, ১৯৬৯
মুদ্রাকর : এম, চৌধুরী
রিপাবলিক প্রেস ২, কবিরাজ লেন, ঢাকা
মূল্য : তিন টাকা মাত্ৰ