বিস্ফোরণ
একটানা চার-পাঁচ ঘণ্টা বৈঠা মেরে মাঝি যখন নারায়ণগঞ্জে নৌকা ভিড়ায় তখন ভোর হয়ে গেছে। এক বছরের মেয়েটাকে কোলে নিয়ে ইয়াসিন নৌকা থেকে নামে, হাত ধরে স্ত্রী পরীবানুকে নামায়।
মাঝিকে কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা খুঁজে পায় না ইয়াসিন। তার মুখে কথার চেয়ে বেশী ফটে ওঠে আবেগ। সে বলে- তোমার ভাড়া দিতে পারলাম না মাঝি ভাই। তুমি যেই উপকার আইজ করলা।- বারে বারে ভাঢ়ার কথা কইয়া শরম দিওনা ভাই। আইজ তুমি বিপদে পড়ছ, কাইল অয়ত আমার বিপদ আসব। একজনের বিপদে যদি আর একজন না আউগায় তয় কি দুইন্যাদারী চলে?
হিং¯্র মানুষেল ভয়ে স্বামী-স্ত্রী শিশু মেয়েটা নিয়ে শণক্ষেতের মধ্যে লুকিয়েছিল। সেখানে সন্ধ্যা থেকে রাত দুপুর অবধি তারা নিশ্চল পড়ে থাকে। শিশু মেয়েটা কেঁদে সর্বনাশ ঘটাবে এই ভয়ে পরীবানু তার স্তনবৃন্ত ওর মুখে পুরেই রাখে সর্বক্ষণ। কিন্তু তবুও মেয়েটা মাঝে মাঝে কেঁদে ওঠে। ইয়াসিনের রাগ ধরে। কাঁদবার জন্য মুখ হা করবার সাথে সাথে সে ওর কচি মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে আর বিড় বিড় করে গাল দেয়Ñ মেকুরের বাচ্চাডারে দম ফাঁপড় কইর্যাই মাইর্যা ফ্যালাইমু।
মহাপতঙ্গ
আবু ইসহাক
প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৯৬৩
প্রকাশক : মুশতাক কামিল
২৩ কে. জি গুপ্ত লেন, ঢাকা-১
দাম : তিন টাকা