ঘুমটা সবে এসেছিল মাত্র, হঠাৎ বৃষ্টি এল ঝমঝমিয়ে, বিছানায় উঠে বসল রমলা, তারপরই ‘সেরেছে’ বলে দুদ্দাড়িয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল নিজের ঘরের খোলা জানালা-দরজার দিকে দৃকপাত না করে।
পার্থর ঘরের জানালা নির্ঘাত খোলা আছে, কে জানে পাখা ও খোলা আছে কিনা, অথচ খেতে বসে বারে বারে কাশছিল।
রমলার ঘর থেকে পার্থর ঘরে যেতে একটা ফাঁকা বারান্দা পার হওয়া ছাড়া উপায় নেই। ঠাকুর্দার আমলের বাড়ি, মাপে প্রাসাদ সদৃশ না হলেও, প্যাটার্নটা প্রাসাদসদৃশ চকমিলানো, প্রকৃতির হাত থেকে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা নেই। খোলা উঠোন, ফাঁকা বারান্দা, ঘরের মধ্যে দিয়ে অন্য ঘরে যেতে দরজার বালাই নেই । রমলার ঘরের পাশেই বাবার ঘর, সে-ও ঘর খুলে বেরিয়ে বারান্দা দিয়েই যেতে হয়। পার্থর ঘরটা তো আবার আরো ঘুরে সিঁড়ি পার হয়ে।
মাঝরাতে হঠাৎ বৃষ্টি এলে অবশ্য বাবার ঘরে ঢুকে তদারক করার কোন প্রশ্ন নেই, বাবা নিজের ঘরের ভিতর থেকে খিল লাগিয়ে শোন। শুধু খিল নয়, লোহার খিল। এই নিয়ে রমলা আর পার্থ কম হাসাহাসি করে না। অবশ্য বাবার আড়ালে । ঘরের দেওয়ালে গাঁথা লোহার আলমারিটা নিয়েই যে বাবার এত সাবধানতা তা ওরা জানে।
পার্থ সেই হাসাহাসির সময় বলে, দিদি, তুই তো বাবার বিশ্বাসী ভৃত্য, তুই একবার কৌশল করে বাবার কোমরের ঘুনসিতে আটকানো ওই চাবিটা বাগাতে পারিস! তাহলে ভদ্রলোকের আয়রন-চেস্টটা খুলে একবার দেখি কী এত মালকড়ি আছে !
বলে—
বাপের সম্পর্কে কথা বলতে পার্থ কদাচ বাবা বলে। ভদ্রলোক, গৃহকর্তা, ডাবু। সত্যশরণের চাকরিটা খিদিরপুরের ডকে মাল খালাসের হিসেব রাখা, তাই এই অভিনব নামকরণ। কাজটা যে বিশেষ উচ্চমানের নয়, এ-কথা রমলাও মনে মনে স্বীকার করে, কিন্তু ভাইয়ের ওই অবজ্ঞাসূচক বিশেষণ দেওয়াটা সমর্থন করে…
যাৱ যা দাম
আশাপূর্ণা দেবী
মিত্র ও ঘোষ ১০ শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, কলিকাতা ১২
প্রথম প্রকাশ, পৌষ ১৩৭৯
পাঁচ টাকা
Extra Air Freight Taka 1.00
প্রচ্ছদপট ও অঙ্কন : চুনী বন্দ্যোপাধ্যায়
মুদ্রণ : স্ট্যাণ্ডার্ড ফোটো এনগ্রেভিং
মিত্র ও ঘোষ, ১০ শ্যামাচরণ দে স্ট্রীট, কলিকাতা ১২ হইতে এস. এন. রায় কর্তৃক প্রকাশিত ও বি, বি. প্রেস, ১১০।বি অখিল মিস্ত্রী লেন কলিকাতা ৯ হইতে এস. এন. শাস্ত্রী কর্তৃক মুদ্রিত।