পঞ্চাশের দশকে উত্তর ভারতে এক রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়েছিল, নাম ছিল রামরাজ্য পরিষদ, দলটির উদ্দেশ্য ছিল সামন্তবাদ পুঁজিবাদকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বর্ণাশ্রমের কুপ্রথাকে আরো জোরদার ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং মেয়েদের অবরোধের আড়ালে নিয়ে যাওয়া। ভারতবর্ষে পুঁজিবাদের পক্ষপাতী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল থাকা সত্ত্বেও এই দলটির বিশেষত্ব ছিল এই যে, তারা তাদের প্রতিক্রিয়াশীল মতবাদকে ঈশ্বরের অনুজ্ঞা এবং ভারতীয় প্রাচীন শাস্ত্রের সমর্থন পুষ্ঠ বলে দাবি করেছিল। তাদের তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন করপাত্রী নামে এক দন্ডীসন্ন্যাসী। যিনি বিশ্বাসের দিক থেকে ছিলেন শংকরাচার্যেরস অনুগামী, মায়াবাদী। তিনি তাঁর সমস্ত চিন্তাধারাকে একটি পুস্তকাকারে প্রকাশ করেন এবং সেটি ছিল ওই রাজনৈতিক দলের বাইবেল। উত্তর ভারতের যে অঞ্চলে এ দলটি সক্রিয় ছিল সেখানে মার্ক্সবাদী দলগুলো আজও হামাগুড়ি দিচ্ছে, অতএব পঞ্চাশের দশকে সেখানে মার্ক্সবাদী দলগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়। অথচ করপাত্রী মহারাজ তাঁর বিশাল গ্রন্থে তত্ত্ব হিসেবে সঠিক ভাবে প্রধান প্রতিপক্ষ বেছেনিয়েছিলেন মার্ক্সবাদকে। কারণ তিনি বুঝেছিলেন, আগামী দিনে এই প্রতিক্রিয়াশীল তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পথে প্রধান অন্তরায় হবে মার্ক্সবাদীরা। তারপরেই আক্রমণ করেছেন বৌদ্ধদের। কারণ ভারতের বিপুল সংখ্যক দলিত অবহেলিত মানুষ বর্ণাশ্রমের শেকল ভেঙে ড. আম্বেদকরের নেতৃত্বে বৌদ্ধদর্শনের অনুগামী হয়ে নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা প্রকাশ করেছিল।
পন্ডিত রাহুল সাংকৃৃত্যায়ন তাঁর ‘রামরাজ্য ও মার্ক্সবাদ’ গ্রন্থে করপাত্রী মহারাজের সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল তত্ত্বকেই খন্ডন করেছেন। অপৌরুষের বেদ, সর্বজ্ঞ ঋষিদের বাণী, কিছু দিয়েই আত্মরক্ষা করা সম্ভব হয়নি। রাহুলজীও ভারতীয় দর্শনে যে অগ্রগামী চিন্তাধারা ছিল, তার সাহায্যে ছিন্নভিন্ন করেছেন মায়াবাদীদের।
রামরাজ্য ও মার্কসবাদ
রাহুল সাংকৃত্যায়ন
অনুবাদ : জোর্তিময় মুখোপাধ্যায় ও মলয় চট্ট্রোপাধ্যায়
প্রথম প্রকাশ : ১৯৯৩
প্রকাশক : শিবব্রত চট্ট্রোপাধ্যায়, চিরায়ত প্রকাশন প্রাইভেট লিমিটেড
১২ বঙ্কিম চ্যাটার্জী ষ্ট্রীট, কলকাতা ৭০০০৭৩
আইএসবিএন : ৮১-৮৫৬৯৬-১৩-৬
দাম : ১৮ টাকা